ভূর্মি কম্পোস্টের গ্রাম হচ্ছে আজমতপুর
আপডেট সময় :
২০২৫-১০-১৯ ১৩:২০:০৩
ভূর্মি কম্পোস্টের গ্রাম হচ্ছে আজমতপুর
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে এখন নতুন এক সম্ভাবনার গল্প রচিত হচ্ছে। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে কেঁচোর বিষ্ঠা থেকে তৈরি জৈব সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে গ্রামটি এখন পরিচিতি পাচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের সূচনা করেছেন স্থানীয় কৃষক কামরুজ্জামান শেখ।
কামরুজ্জামানের বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোট্ট এক ভার্মি কম্পোস্ট কেন্দ্র্র। সেখানে ১০টি রিং ও সিমেন্টের তৈরি প্রায় ১০ ফুট লম্বা হাউজে চলে উৎপাদন কার্যক্রম। প্রথমে গোবর ৫-৭ দিন গ্যাসমুক্ত করে সেখানে কেঁচো ছাড়া হয়। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে তৈরি হয় পুষ্টিগুণে ভরপুর জৈব সার। শুকিয়ে তা প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এখান থেকে মাসে এক টনেরও বেশি ভার্মি কম্পোস্ট বাজারজাত হয়।
কামরুজ্জামান শেখ বলেন, শুরুতে নিজের প্রয়োজনে জৈব সার তৈরি করলেও এখন এটি আমার আয়ের অন্যতম উৎস। প্রতি কেজি সার ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা এত বেশি যে বাজারজাত করতে কোনো কষ্ট হয় না। কেঁচোও এখন আলাদা করে বিক্রি হয়, প্রতি কেজির দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
গাজীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার একদিকে যেমন রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমায়, তেমনি ফসলের উৎপাদন বাড়ায় ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। কৃষকদের এখন এই সারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে-এটি ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের (২য় সংশোধিত) প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, এই প্রকল্পের মেয়াদ চলতি অর্থবছরেই শেষ হচ্ছে। বর্তমানে নতুন করে কোনো প্রদর্শনী স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে আগ্রহী কৃষক বা উদ্যোক্তারা কৃষি অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রকল্পের আওতায় সুযোগ পেতে যেতে পারেন।
###
তৈয়বুর রহমান
০১৮২৪৯৫১৫১০
কালীগঞ্জ, গাজীপুর
১৮ অক্টোবর ২০২৫
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স